অর্থনীতি

এগিয়ে চলছে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ

এগিয়ে চলছে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ

অনেক আলোচনা-সমালোচনার সমাপ্তি ঘটিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লিতে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চূড়ান্ত ঋণচুক্তি সই এবং পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তিপত্র বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। এর পর থেকেই মূলত রামপালে কয়লাভিত্তিক এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেড (ভেল) গত এপ্রিল মাসেই প্রথম ইউনিটের কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে আলোচিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য ক্ষণ গণনা চলছে। ৪১ মাসের মধ্যে দুই ইউনিটের কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ করা হবে বলে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিআইএফপিসিএলের।

২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল সেখানে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সঞ্চালনের একটি প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০১২ সালে খুলনার রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিটের কয়লাভিত্তিক তাপ-বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বিদ্যুৎ খাতের আলোচিত এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিতব্য কেন্দ্রটি স্থাপনে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ দিবে ওই ব্যাংক। বাকি টাকা দিবে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে।
এক্সিম ব্যাংকের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, ১৬০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০ বছরে। সাত বছর পর থেকে ঋণের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে। ২৭টি অর্ধবার্ষিক কিস্তিতে এক্সিম ব্যাংককে ঋণ শোধ করতে হবে। ঋণের সুদের হার হবে লন্ডন আন্তঃব্যাংক হারের (লাইবর) সঙ্গে ১ শতাংশ সুদ যোগ করে। এছাড়া ঋণের অব্যবহৃত বা ছাড় না করা অর্থের ওপর বার্ষিক দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। ঋণ প্রক্রিয়াকরণের জন্য ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক মাশুল দুই লাখ ডলারও দিতে হবে বিআইএফপিসিএলকে। ফিফটি ফিফটি মালিকানা হলেও ঋণের পুরোটা দায়ভার থাকবে বাংলাদেশের ওপর। বাংলাদেশ সরকার দেবে এ ঋণের ‘নিশ্চয়তা’, অর্থাৎ জামিনদার হবে।
বর্তমানে প্রকল্পটির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, তবে চলতি বছরের এপ্রিলে পূর্ণউদ্দমে শুরু হয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ।
ভারতের এনটিপিসি কোম্পানি সেই দেশের ছত্তিশগড়ে একই প্রকল্প অর্থাৎ একটি ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপ-বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের গ্রিন প্যানেলের ইআইএ রিপোর্ট প্রকল্পটিকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে প্রতিবেদন দাখিল করায় ভারত সরকার সেই প্রকল্পটি বাতিল করেছে।
বনের কাছে হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ এবং গরম পানির কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং পশুর নদী বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। এক পর্যায়ে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সার্টিফিকেট নিয়েই এই প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হয়।
বাংলা ইনসাইডার

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটির মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close