জাতীয়

জিয়া শুধু মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, জিয়া ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের রক্ষাকর্তা।

জিয়া শুধু মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না,জিয়া ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের রক্ষাকর্তা।

ক্ষমতায় এসে জিয়ার প্রথম কাজ ছিল সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া আওয়ামীলীগ আমলে যত মুক্তিযোদ্ধা জেলখানায় ছিল তাদের কে মুক্তি প্রদান করা এবং শর্ত ছিল জাতীয় উন্নয়ন মুলক কাজে মনোনিবেশ করা। তৎকালীন জনশক্তি এবং সমাজ কল্যান মন্ত্রীর সাথে জিয়া নিজে বসে ঠিক করলেন বিদেশে চাকুরীর ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে, প্রতিটা রিক্রুটিং এজেন্টদের বাধ্য করলেন বিদেশে চাকুরীর ক্ষেত্রে ১০% মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়োগ দিতে। এজন্য তিনি তিনি আলাদা ফাইল করলেন, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া ছিল প্রতি সপ্তাহে সে ফাইল যেন তাকে দেয়া হয় এবং নিজে সে ফাইল গুলো চেক করতেন। বিভিন্ন চাকুরীর ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০% চাকুরীর কোটা কিন্তু আওয়ামী ৭২-৭৫ আওয়ামী সরকার না জিয়া ই প্রবর্তন করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা ভবন কিন্তু এই জিয়াই উদ্ভোধন করেন। প্রায় গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগমুক্তি বিশ্রামাগারে চলে যেতেন। হয়ত নাড়ীর টানে ভুতে পাওয়া মানুষের মত। নিজেই গাড়ী ড্রাইভ করে চলে যেতেন। সেখানকার আহত মুক্তিযোদ্ধা দের তিনি নিজ পরিবারের সদস্য ছাড়া আলাদা কিছু ভাবতেন না, প্রায় সব মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি “তুই” করে অতি আপন জনের মত সম্বোধন করতেন। রুহুল আমিন সম্পাদিত “মৃত্যুঞ্জয়ী জিয়া” বইর একটা ঘটনা এখানে তুলে দেই, মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে জিয়ার সম্পর্ক কি রকম ছিল ধারনা পাবার জন্য, একদিন রাত সাড়ে এগারটায় জিয়া নিজে গাড়ী চালিয়ে মোহাম্মদপুরে আহত মুক্তিযোদ্ধা বিশ্রামাগারে গিয়ে উঠলেন, সেখানে রফিক নামে এক আহত মুক্তিযোদ্ধা বারান্দায় বসে বিড়ি টানছিল। রফিক দেখল যে দেশের প্রেসিডেন্ট সেখানে গেছে কিন্তু খুব একটা ভাবান্তর ছিল না তার মাঝে, কারন সে ও একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং জিয়াও একজন মুক্তিযোদ্ধা। সেখানে প্রেসিডেন্ট, সামরিক বাহিনী প্রধান এই সব পরিচয় অবান্তর যেখানে মৃত্যুর মুখে জীবন বাজি নিয়ে সহযোদ্ধা হয়। “এই তুই কি টানছিস?” পাশ দিয়ে যাবার সময় জিয়া রফিক কে জিজ্ঞেস করে “বিড়ি টানি” নির্লিপ্ত উদাস রফিকের উত্তর। “কেন, বিড়ি কেন? সিগারেট টানতে পারিস না?” জিয়া মৃদু স্বরে জিজ্ঞাস করলেন “না পারি না, যে টাকা দেন তাতে তো বিড়িই হয় না আবার সিগারেট” রফিকের এক ঘেয়ে জবাব। “না, আজ থেকে তোরা বিড়ি না সিগারেটই টানবি” পরম বন্ধুর সাথে মানুষ যেভাবে কোন আশ্বাস দেয় জিয়া সেভাবে রফিক কে বললেন। এবং পরদিনই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১৫০ টাকা থেকে ১১০০ টাকায় উন্নীত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য তিনিই প্রথম মুক্তিযুদ্ধের দলিল সংগ্রহ এবং সংকলন করার জন্য ১৯৭৭ সালে হাসান হাফিযুর রহমান কে প্রকল্প পরিচালক করে ডঃ মফিযুল্লাহ কবীর কে সভাপতি করে ডঃ সালাউদ্দীন আহমদ, ডঃ আনিসুজ্জামান, ডঃ এনামুল কবীর, ডঃ সফর আলী আকন্দ, ডঃ কে এম মহসিন, ডঃ সামশুল হুদা হারুন ও ডঃ এম এ করিম কে সদস্য করে মুক্তিযুদ্ধের দলিল সংগ্রহ এবং সংকলন কমিটি গঠন করে। এই কমিটি পাচ বছরে ৩ লাখ পৃষ্টার বিভিন্ন দলিল সংগ্রহ করে সেখান থেকে ১৬ খন্ডের মুক্তিযুদ্ধের দলিল প্রকাশিত হয়। জিয়া শুধু মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের রক্ষাকর্তা। জানিনা কত জন জিয়া প্রেমী এগুলো জেনে মিথ্যাচারের জবাব দিতে পারে। সত্য উন্মোচিত হোক।।

রিপোর্টঃ Md Jahirul  

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটির মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close