আন্তর্জাতিক

মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর বর্বর নির্যাতনের কে এই মূলহোতা ?

মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর বর্বর নির্যাতনের কে এই মূলহোতা ?

Ashin Wirathu..মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর বর্বর নির্যাতনের প্রধান আসামী !! ২০০৩ সালে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে তার২৫ বছরের জেল হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে জেল থেকে মুক্তি লাভ করে সে নিজেকে মায়ানমারের ” ওসামা বিন লাদেন” হিসেবে প্রচার করে !! তখন থেকে সে ইউটিউব ও ফেসবুকের মত মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচারনা চালাতে থাকে ।

২০০১ সালে সে মুসলিম বিদ্বেষী গোষ্ঠী “969 movement” এ যোগ দেয় । তার বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উৎপীড়ন চালানোর জন্য প্রচারনা চালানোর অভিযোগ থাকলেও সে নিজেকে একজন শান্তিপ্রিয় ধর্মজাজক হিসেবেই দাবি করে !! অবশ্য সে প্রকাশ্যে মুসলমানদেরকে শত্রু বলে দাবি করে !!

২০১৩ সালের জুন মাসে প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনের কাভার পেজে তাকে “The Face of Buddhist Terror” হিসেবে অভিহিত করা হয় !! “ তুমি দয়ামায়া-ভালোবাসায় পরিপূর্ন হতে পারো, কিন্তু তুমি পাগলা কুত্তার পাশে ঘুমাতে পারো না” – মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে বলা তার বচন !! সে আরো বলে যে আমরা যদি দুর্বল হয়ে যাই, তবে আমাদের ভূমি একদিন মুসলিমদের হয়ে যাবে !

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিষয়ে বৌদ্ধদের মনে ভীতি ছড়ানোর জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

এমনকি জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি-কে ‘বেশ্যা’ বলে গালমন্দ করেছেন এ বৌদ্ধ ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু।

১৫ বছর আগেও এ বৌদ্ধ ভিক্ষু কারো কাছে পরিচিত ছিলেন না। ১৯৬৮ সালে জন্ম নেয়া আশ্বিন উইরাথু ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে ভিক্ষু হতে গিয়েছিলেন।
২০০১ সালে তিনি মুসলিম-বিরোধী এবং জাতীয়তাবাদী একটি গ্রুপ গঠন করেন, যার নাম ছিল ৯৬৯ গ্রুপ। এ সংগঠনটিকে উগ্রপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
যদিও উগ্রপন্থার বিষয়টি মি. উইরাথুর সমর্থকরা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

২০০৩ সালে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১০ সালে অন্যান্য রাজবন্দীর সাথে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
সরকার নিয়ম শিথিল করার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেন।

তিনি ইউটিউব এবং ফেসবুকে তার নানা ধরনের বক্তব্য ছড়াতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার ৩৭ হাজারের বেশি ফলোয়ার ছিল।
২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে মুসলমান এবং বৌদ্ধদের মধ্যে যখন তীব্র সংঘাত শুরু হয়। সে সময় আশ্বিন উইরাথু তার জ্বালাময়ী বক্তব্য নিয়ে জনসমক্ষে আসেন।
তার একটি পরিচিত উক্তি ছিল, ‘তুমি যাই করো, সেটা একজন জাতীয়তাবাদী হিসেবে করবে।’

২০১৩ সালের ১ জুলাই টাইম ম্যাগাজিন আশ্বিন উইরাথুকে নিয়ে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছিল। সেটির শিরোনাম ছিল, ‘একজন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীর মুখ’।
তার বক্তব্য হিংসা ছড়িয়েছিল এবং সেগুলোর মূল টার্গেট ছিল রোহিঙ্গা মুসলমানরা।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরিত করার দাবি নিয়ে তিনি সমাবেশও করেছেন।
মুসলমানদের মধ্যে জন্মহার বেশি – এমন বক্তব্য প্রচার করেছেন আশ্বিন উইরাথু। তিনি অভিযোগ করেন, বৌদ্ধ নারীদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে।
অনেকে মনে করেন, আশ্বিন উইরাথুর বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে টার্গেট করা হবে।

তাছাড়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব দেবার বিরুদ্ধে তিনি যেসব কথা বলতেন, সেগুলো ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল।
এমনকি মিয়ানমারের অন্য অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু তার বিষয়ে কোনো কথা বলতে চান না।
যদিও ২০০৭ সালে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন।

আশ্বিন উইরাথু খুব দ্রুত বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন বার্মার বৌদ্ধদের প্রতীক হিসেবে।
তবে তিনি বাস্তবে বার্মার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের প্রতিনিধিত্ব করেন কি না সেটি নিয়ে বেশ সংশয় আছে।
প্রায় অর্ধ শতাব্দী সামরিক শাসনের পরে মিয়ানমারে এখন নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

অনেকে মনে করেন, উগ্রপন্থী ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথু রোহিঙ্গা বিরোধী যে মনোভাব দেখিয়েছেন সেটি মিয়ানমারের ভেতরে অনেকেরই মনের কথা।
সরকারের ভেতরে অনেকেই কূটনৈতিক কারণে রোহিঙ্গাবিরোধী কথা সেভাবে বলতে পারেন না।

ফলে মি. উইরাথু রোহিঙ্গা বিরোধী যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তার পেছনে সরকারের সমর্থন রয়েছে।

মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, আশ্বিন উইরাথুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পেলে তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটির মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close