রাজনীতি

ইসির সংলাপে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে নজর বিএনপির

ইসির সংলাপে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে নজর বিএনপির

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে সবার জন্য সমান ক্ষেত্র বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

সংগঠনটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এনটিভির কাছে এমন অভিমত দিয়েছেন।

কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যাপারে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে বিএনপি। এর পরও আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কমিশনের ডাকা সংলাপে অংশ নিচ্ছে দলটি। ইতিমধ্যেই সংলাপে বিএনপির প্রস্তাবের খসড়াও প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।

দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি কীভাবে সম্ভব, সেদিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।

‘নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন জনসমক্ষে উঠে এসেছে, দেশে-বিদেশে, সেটার সমাধানকল্পে যে বিষয়গুলো থাকবে, সেগুলোই আমাদের প্রস্তাবনায় থাকবে’, বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

‘নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এনশিওরড, নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, সেটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে’, যোগ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) সভা-সমিতি করতে পারবে, মানুষের কাছে ভোট চাইতে পারবে। আর আমরা, আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ওই যে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত। তাতে কি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে?’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কী ধরনের ব্যবস্থা হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে, সেটা অবশ্যই নির্বাচন কমিশন, সরকারের প্রতি চাপ দিতে পারে। তারা খোলাখুলিভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে আমরা (ইসি) রেফারিগিরি করতে রাজি না।’

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার ব্যাপারে জোরালো যুক্তি তুলে ধরবে বিএনপি। ভোটার তালিকা হালনাগাদের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে ছবিসহ ভোটার তালিকা সরবরাহ করার প্রস্তাব থাকবে দলটির সুপারিশে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁদের রাজনৈতিক আনুগত্য রয়েছে, তাঁদের নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন ইসির এখতিয়ারে থাকার নিশ্চয়তা চায় বিএনপি।

এসব বিষয়ে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘২০১৪ সালে যেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হয় নাই ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার জন্য, সেখানে মানুষের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সেনাবাহিনী যদি সম্পৃক্ত হয়, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটু আস্থা ফিরে আসবে এবং তারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে।’

বিএনপির নেতারা মনে করেন, ইসির সংলাপ নয়, বিএনপি মনে করছে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে সংলাপ ছাড়া সমাধান হবে না রাজনৈতিক সংকটের।

উৎসঃ   এনটিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটির মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close