রাজনীতি

জিয়া পরিবারের ১২শ’ কোটি টাকা পাচারের তদন্ত চলছে

জিয়া পরিবারের ১২শ’ কোটি টাকা পাচারের তদন্ত চলছে

সংসদ ভবন থেকে: জিয়া পরিবারসহ বিএনপি নেতাদের ১২টি দেশে ১২০০ কোটি টাকা পাচারের তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান।

জিয়া পরিবারসহ বিএনপি নেতাদের ১২টি দেশে অর্থপাচারের তথ্য তুলে ধরে ফখরুল ইমাম বলেন, সম্প্রতি গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক প্রতিবেদন (জিআইএন) অনুযায়ী বিএনপির খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তার পরিবার যে টাকা পাচার করেছে; তার একটা রিপোর্ট রয়েছে।

ওই রিপোর্ট অনুযায়ী শুধু দুবাই না, অন্তত ১২টি দেশে জিয়া পরিবারসহ বিএনপি নেতাদের সম্পদ আছে। যার প্রাক্কলিত মূল্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

কার কোথায় কী আছে তুলে ধরে ফখরুল ইমাম বলেন, সৌদি আরবে আহমেদ আল আসাদের নামে আল-আরাবার শপিং মলটির মালিকানা বেগম জিয়ার। কাতারে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ‘ইকরা’ এটার মালিকও হলেন বাংলাদেশি। এটার মালিকও বেগম জিয়া। জিয়াপুত্র আরাফাত রহমানের নামে এই সম্পদের পুরো মালিকানা। তাছাড়া তুহিন নামে তার (খালেদা জিয়ার) ভাতিজার তিনটি বাড়ি আছে কানাডাতে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে ‘হোটেল মেরিন ডে’ মালিকানার ১৩ হাজার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফের। ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নামে লন্ডনে স্ট্যামফোর্ডে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদের নামেও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে দুবাইতে রয়েছে বিলাসবহুল ভবন। সিঙ্গাপুরে মির্জা আব্বাস তার সন্তানের নামে কিনেছেন দুটি অ্যাপার্টমেন্ট। বিএনপি নেতা নজরুর ইসলামের সিঙ্গাপুরে বিশাল বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তদন্ত চলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে মানি লন্ডারিং এর জন্য তদন্তের একটা ব্যবস্থা আছে। তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাতো সবাই জানেন তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় এসে হত্যা সন্ত্রাসের পাশাপাশি দুর্নীতি লুটপাট করে বিদেশে অর্থপাচার করা মানি লন্ডারিং করা এই অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের পাচার করা টাকা ফেরত এনেছি। আমরাই প্রথম বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।

সংসদের বিরোধী দল থেকে প্রশ্নটি আসায় ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের কেউ প্রশ্নটি আনলে অনেকে আছেন, যারা মায়াকান্না করতো- সরকার হিংসা করে এগুলো বলছে। যাইহোক তদন্ত চলছে, তাতে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটির মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close