রাজনীতি

ক্ষমতা হারানো ঠেকাতে বিদেশীদের পায়ে পড়েছে হাসিনা!

ক্ষমতা হারানো ঠেকাতে বিদেশীদের পায়ে পড়েছে হাসিনা!

সরকার পতনের মুখে তাকে রক্ষার জন্য শেখ হাসিনা বিদেশীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এ ইচ টি ইমামের গুলশান-২ নম্বরের ৫৪ নম্বার বাসায় কূটনীীতকদের নিয়ে গোপন বৈঠক শুরু হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। এখনও চলছে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নেদারল্যান্ডস, ও ভারতের ঢাকাস্থ কূটনীতিকরা উপস্থিত আছেন। তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যত ঠিক করার জন্য জরুরী বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।

শেখ হাসিনা এইচ টি ইমামকে দায়িত্ব দিয়েছেন বিদেশীদের হাত পা ধরে হলেও ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত তাকে সময় দিতে। শেষে ব্যর্থ হলে কোর লোকজন সহ হাসিনাকে সেফ প্যাসেজ তৈরী করে দিতে অনেুরোধ জানাবে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক সরকারের আগমনের ঠিক আগে বিদেশীরা এরূপ তৎপর হয়েছিলেন। ২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারী কানাডিয়ান হাইকমিশনার বারবারা রিচার্ডসনের বাসায় প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূতরা (টুইসেডে গ্রুপ নামে পরিচিত ছিল) বিএনপি মহাসচিব মান্নান ভুইয়া এবং আ’লীগ সাধারন সম্পাদক আবদুল জলিলের সাথে বৈঠক করে জানান দেন- জরুরী সরকার আাসছে, এবং তাদের সমর্থন রয়েছে। পরবর্তীতে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে আগে ঐসব প্রভাবশালী কূটনীতিকরা আবার ‘বাংলাদেশ ফ্রেন্স গ্রুপ’ নামে বৈঠক করতে থাকে। এক পর্যায়ে ঢাকায় আসেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত তারানকো ফারনান্দেজ। রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরী করতে এরা তারনকোর সাথেও বৈঠক করে। বিএনপি আ’লীগ সমঝোতার কাছাকাছি পৌছে যাওয়ার মুখে ৫ জানুয়ারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সরকার বিদেশীদেরকে কথা দেয়, এটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন। তিন মাসের মধ্যেই একটি গ্রহনযোগ্য ইনক্লসিভ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের প্রবীণ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিত টেলিভিশনে প্রকাশ্যে স্বীকার করে বলেন, সরকার জনগনের ম্যান্ডেট পায়নি, অচিরেই আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয় নিয়ে ঢাকার প্রায় সব রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনা সরকারের সাথে প্রকাশ্যে বৈঠকও করেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সরকার কথা থেকে সরে যেতে থাকে। তিন মাস থেকে ছয় মাস, ছয় মাস থেকে এক বছর, দু’বছর, তিন বছর করে পিছাতে থাকে। এমনও বলা হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করার পরে, জঙ্গিবাদ শেষ করার পরে ইত্যাদি। এরি মধ্যে বিরোধী দলগুলোর উপর চলতে থাকে স্টীম রোলার, নিষিদ্ধ হয় মিছিল মিটিং, স্বাভাবিক রাজনীতি বন্ধ হয়ে যায়। দেখতে দেখতে চার বছর পরে সরকার। তখন সরকার নিজেদেরকে বেশ শক্তিশালি ভাবতে থাকে। বিদেশীরাও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে সরকার উপেক্ষা উপহাস করতে থাকে। এমনকি মার্কিন সহকারী মন্ত্রীকে দুই আনার মন্ত্রী, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে কাজের মেয়ে ডাক, তাদেরকে তাড়িয়ে দেবার হুমকিও আসে মন্ত্রীদের কাছ থেকে। ধীরে ধীরে অনেকটা নেপথ্যে চলে যান বিদেশীরা।

অবশেষে, দেশী বিদেশী দীর্ঘদিনের চেষ্টায় বর্তমান ম্যান্ডেটহীন সরকার পতনের মুখে উপনীত হয়েছে, তখন শেষ রক্ষা হিসাবে বিদেশীদের পায়ে পড়লো হাসিনা।

গোপন এ বৈঠকের খবর কিছুটা জানাজানি হওয়ায় আ’লীগের নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাপ।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটির মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close